পলিটেকনিক ও ITI ২০২৬: অনলাইন ফর্ম ফিলাপ করার সময় যে ১০টি ভুল একদম করবেন না!

Job Description

পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের Common Admission Portal-এ আবেদন করার সময় অনেক ছাত্রছাত্রী তাড়াহুড়ো করে ভুল করে ফেলে। এই নির্দেশাবলীগুলো ভালো করে পড়ে তবেই ফর্ম ফিলাপ শুরু করুন।

১. মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)

ফর্মে যে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেবেন, সেটি যেন আপনার নিজের বা পরিবারের কারোর হয়। কারণ, রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে কাউন্সেলিং এবং কলেজে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত সমস্ত OTP এবং আপডেট এই নম্বরেই আসবে। মাঝপথে সিম কার্ড হারিয়ে গেলে বা নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে আপনার অ্যাডমিশন আটকে যেতে পারে।

২. নামের বানান ও জন্ম তারিখ

আপনার নাম, বাবার নাম এবং জন্ম তারিখ যেন হুবহু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা মার্কশিটের মতো হয়। একটি অক্ষরের ভুল থাকলেও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের সময় আপনাকে রিজেক্ট করে দেওয়া হতে পারে।

৩. সঠিক ‘প্রোগ্রাম’ নির্বাচন

আপনি যদি মাধ্যমিক পাস করে ৩ বছরের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা করতে চান, তবে ‘Polytechnic 1st Year’ সিলেক্ট করুন। আর যদি ভোকেশনাল বা আইটিআই করতে চান, তবে আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী ‘M-Group’ (10th pass) বা ‘E-Group’ (8th pass) বেছে নিন।

৪. TFW (Tuition Fee Waiver) কোটা কী?

এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অপশন। আপনার পরিবারের বার্ষিক আয় যদি নির্দিষ্ট সীমার (সাধারণত ২.৫ লক্ষ টাকার নিচে) কম হয়, তবেই এটি ‘Yes’ করুন।

  • সুবিধা: সরকারি কলেজে পড়ার টিউশন ফি একদম লাগে না।
  • সতর্কতা: এটি সিলেক্ট করলে আপনাকে পরবর্তীকালে ভিডিও (BDO) বা এসডিও (SDO)-র থেকে ইনকাম সার্টিফিকেট জোগাড় করে দেখাতে হবে। না পারলে ভর্তি বাতিল হবে।

৫. ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড (Photo & Signature)

পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং সিগনেচার পরিষ্কার হতে হবে। ঝাপসা ছবি বা ভুল করে অন্য কারোর ছবি আপলোড করলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে। পোর্টালে দেওয়া নির্ধারিত সাইজের (যেমন: ৫০০০ KB-র নিচে) মধ্যে ফাইল সেভ করে রাখুন।

৬. ক্যাটাগরি বা সংরক্ষণ (SC/ST/OBC/PWD)

আপনার কাছে যদি বৈধ কাস্ট সার্টিফিকেট থাকে, তবেই সেটি উল্লেখ করুন। সার্টিফিকেটের নম্বর এবং ইস্যুয়িং অথরিটি সঠিকভাবে দিন। মনে রাখবেন, ভর্তির সময় অরিজিনাল সার্টিফিকেট দেখাতে না পারলে আপনার সিট বাতিল হয়ে যাবে।

৭. ডিস্ট্রিক্ট কোটা (District Quota)

আপনি যে জেলা থেকে মাধ্যমিক পাস করেছেন, সেই জেলার সংরক্ষিত সিটের সুবিধা পেতে সঠিক জেলার নাম নির্বাচন করুন। ভুল জেলা দিলে আপনি সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

৮. ‘Return by Verifier’ এবং জরিমানা

ফর্ম সাবমিট করার পর যদি দপ্তরের ভেরিফায়ার কোনো ভুল খুঁজে পায়, তবে তিনি ফর্মটি আপনার কাছে ফেরত পাঠাবেন। সেটি সংশোধন করতে আপনাকে ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। তাই একবারেই নির্ভুলভাবে ফর্ম ফিলাপ করার চেষ্টা করুন।

৯. ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন স্ট্যাটাস

ফর্ম ফিলাপ এবং ফি জমা দেওয়ার পর আপনার কাজ শেষ নয়। নিয়মিত ড্যাশবোর্ড লগইন করে চেক করুন আপনার স্ট্যাটাস ‘Verified’ দেখাচ্ছে কিনা। কোনো মেসেজ আসলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিন।

১০. ফি পেমেন্ট কনফার্মেশন

ফি জমা দেওয়ার পর পেমেন্ট রিসিপ্ট এবং অ্যাপ্লিকেশনের ফাইনাল প্রিন্ট আউট কপি ডাউনলোড করে নিজের কাছে সেভ করে রাখুন। এটি পরে কলেজে ভর্তির সময় অবশ্যই লাগবে।

এডুকেয়ার স্কিল অ্যাকাডেমি (Educare Skill Academy) থেকে বিশেষ পরামর্শ:

“অনেক সময় সাইবার ক্যাফে থেকে ফর্ম ফিলাপ করার সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ক্যাফেতে বসে থাকলেও স্ক্রিনের দিকে নজর রাখুন এবং নিজের হাতে তথ্যগুলো চেক করুন। বিশেষ করে আধার নম্বর এবং মার্কশিটের নম্বর ভুল করবেন না। যদি কোনো দ্বিধা থাকে, তবে ফর্ম সাবমিট না করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা আপনাকে সাহায্য করব।”